মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৯ মার্চ ২০২১

বিগত ৫০ বছরে আরজেএসসি’র বিশেষ অর্জন

বিগত ৫০ বছরে আরজেএসসি’র বিশেষ অর্জনঃ

যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর বাংলাদেশের ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার তথা অর্থনীতির বিনির্মানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি সরকারের কর বহির্ভূত রাজস্ব আয়েরও একটি অন্যতম উৎস। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে সর্বপ্রথম যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের পরিদপ্তর স্থাপিত হয়। তখন ভারতের কলকাতা থেকে প্রাপ্ত কোম্পানি, পেশাদার সংগঠন ও অংশীদারী কারবারের নথিপত্র নিয়ে এর কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৬২ সালে দপ্তরটি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে  চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনায় তিনটি বিভাগীয় কার্যালয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করা হয়।

 

পরিদপ্তরটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ এর ডিজিটাল বাংলাদশে বির্নিমানে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। নিবন্ধন প্রক্রিয়া দ্রুততার সাথে সম্পন্নের জন্য ও এ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে জানুয়ারি, ২০০৯ হতে এ দপ্তর স্বয়ংক্রীয় পদ্ধতি প্রবর্তনে নানামূখী কার্যক্রম শুরু করে। এসকল কর্মসূচি বাস্তবায়নে নির্ধারন করা হয় বিভিন্ন মেয়াদি লক্ষ্য, যা এনে দেয় যুগান্তকারী সাফল্য ও গ্রাহক সেবায় যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। এ সকল যুগান্তকারী কার্মকান্ড পরিদপ্তরটিকে ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় সেবা প্রদানের দিক থেকে প্রথম ডিজিটাল অফিস হিসেবে দেশে ও বিদেশে পরিচিতি করে তুলছে। যা বাংলাদেশের ব্যবসা নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে বিশ্বমানে উন্নীত করেছে। ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা ২০১১ তে (e-government) বিশেষ সম্মাননাও লাভ করেছে এ দপ্তর।

 

‘Ease of doing business’ এবং ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে আরজেএসসি’র নানা পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাংক থেকে প্রকাশীত ‘Ease of Doing Business (EoDB) 2019’ এর সূচকে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৬তম ধাপ থেকে ১৬৮তম ধাপে এগিয়ে আনতে এ কার্যক্রম সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

 

বিশ্ব ব্যাংক কর্তৃক প্রণীত ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দুই ডিজিটে আনয়নের লক্ষ্যে আরজেএসসি বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। International Finance Corporation (IFC) প্রণীত Doing Business Report ২০১১-এ আরজেএসসিকে One of the top ten reformers স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।

ব্যবসা সহজীকরণের জন্য এ পরিদপ্তর অদ্যাবধি নানাবিধ কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-

  • ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ২১,৬০৮টি প্রতিষ্ঠান, ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত টি প্রতিষ্ঠান ১,১৭,৩৪৪ টি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
  • ২০০৯ সাল থেকে এ পরিদপ্তরের সকল সেবা প্রদান অনলাইনের মাধ্যমে সম্পাদিত হচ্ছে। অনলাইন নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০০৯ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৮০৯টি পাবলিক কোম্পানি, ১০৬৯৪২টি প্রাইভেট কোম্পানি, ৪২২টি ফরেন/লিয়াঁজো কোম্পানি, ১৪৭৮৬টি পার্টনারশীপ ফার্ম, ৪২০টি ট্রেড অর্গানাইজেশন এবং ৬৪৯২টি সোসাইটি নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়েছে।
  • কাউন্টারে উপস্থিত হয়ে ফি প্রদানের অসুবিধা দূরীভূত করে অনলাইন ব্যাংকিং ও ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের এর মাধ্যমে ফি প্রদানের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এছাড়া নগদ ও বিকাশ (মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস) এর মাধ্যমে ফি প্রদানের ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
  • এ পরিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত সেবার ফি কমানো হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, ১০ লক্ষ টাকার অনুমোদিত মূলধন বিশিষ্ট প্রস্তাবিত কোম্পানির নিবন্ধন ফি মওকুফ করা হয়েছে।
  • কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ সংশোধনের মাধ্যমে কোম্পানি সিলের প্রয়োজনীয়তা রহিত করা হয়েছে।
  • কোম্পানির ৫% শেয়ার হোল্ডারগণ কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় এজেন্ডা প্রদান করতে পারবেন মর্মে “কোম্পানি (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন,২০২০” মহান জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে।
  • এক ব্যক্তি কোম্পানি আইন মহান জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এক ব্যক্তি কোম্পানির অন্যতম সুবিধা হল এতে সুযোগ বেশি কিন্তু দায়বদ্ধতা সীমাবদ্ধ কারণ এক ব্যক্তি কোম্পানির দায় যেহেতু ব্যাক্তির শেয়ারের অংশের মূল্যের পরিমাণে সীমাবদ্ধ সেহেতু সে তার ব্যক্তিগত সম্পদকে প্রভাবিত বা ক্ষতিগ্রস্থ না করে আরও বেশী ঝুঁকি নিতে পারে।
  • কোম্পানি আইন ১৯৯৪-কে আরো ব্যবসা বান্ধব ও যুগোপযোগী করণের লক্ষ্যে নতুন ‘কোম্পানি আইন, ২০২০’ এর খসড়া প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
  • Starting a Business সহজ করার জন্য বিডা, বেজা, হাইটেক পার্ক এর ওএসএস ‘র সাথে এ পরিদপ্তরের অনলাইন সিস্টেমকে সংযুক্ত করা হয়েছে, বেপজা এর ওএসএস ‘র সাথে সংযুক্ত হওয়ার কাজ চলমান রয়েছে।
  • তথ্য বিনিময়ের জন্য এনবিআর‘র ই-টিন সিস্টেমের সাথে  এ পরিদপ্তরের অনলাইন সিস্টেমকে সংযুক্ত করা হয়েছে, এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক, সিকিউরিটি একচেঞ্জ কমিশন ও এনআইডি যাচাইয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সিস্টেমের সাথে সংযুক্তির কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
  • নিবন্ধনোত্তর কার্যক্রমে হার্ডকপি জমা দেওয়া, শেয়ার ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে অফিসে উপস্থিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা দূর করা সহ  সকল কার্যক্রমে integrity, authenticity ও securityর জন্য ডিজিটাল স্বাক্ষর প্রচলনের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে হার্ড কপি দাখিলের প্রয়োজন হবে না, অফিসে স্ব-শরীরে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন হবে না।
  • স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ডিজিটাল স্বাক্ষরিত সার্টিফাইড কপি প্রদান করা হচ্ছে।
  • নামের ছাড়পত্র, নিবন্ধন ও ফি প্রদান এই তিনটি ধাপকে একটি ধাপে উন্নীত করা হয়েছে।
  • আন্তর্জাতিক সংস্থা USAID এর প্রজেক্ট FEED THE FUTURE(BITBEE) এর সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কাজ চলমান রয়েছে। এই প্রজেক্টের মূল লক্ষ্য আরজেএসসি’র রেজিস্ট্রেশন প্রসেসকে world standard good practices এ আনয়ন।
  • স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে মর্টগেজ/চার্জ নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
  • স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নিবন্ধিত কোম্পানির নামের পরিবর্তনের সার্টিফিকেট প্রদান কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

 

 

সেবা সহজীকরনের উদ্দেশ্যে আরজেএসসির সাথে বিভিন্ন সংস্থার চুক্তিসমূহঃ

  • জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরঃ ন্যাশনাল সিংগেল উইন্ডো ফর ট্রেড এর সাথে একীভূত হওয়ার লক্ষ্যে, এর শীর্ষ সংস্থা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর সাথে ২০১৮ সালের ০৭ই আগস্ট আরজেএসসি একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। বাংলাদেশে বাণিজ্যের জন্য ন্যাশনাল সিংগেল উইন্ডো বাস্তবায়নের সাথে সাথে হ্রাস করা বাণিজ্যকালীন সময় এবং ব্যয় থেকে লক্ষাধিক রপ্তানিকারক এবং আমদানিকারক উপকৃত হবে। ন্যাশনাল সিংগেল উইন্ডো আমদানি, রপ্তানি এবং পণ্য পরিবহণ সম্পর্কিত সমস্ত প্রক্রিয়া একীভূত করবে এবং আমদানিকারক এবং রপ্তানিকারীদের জন্য সিংগেল পয়েন্ট অ্যাক্সেস এবং সার্ভিস সরবরাহ করবে।
  • CCI&E এর সাথে চুক্তি স্বাক্ষরঃ ২০১৯ সালের ১০ই ডিসেম্বর আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর (CCI&E)- এর সাথে আরজেএসসি একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এই সমঝোতা স্মারকের মূল উদ্দেশ্য হল উভয় পক্ষের প্রয়োজনীয়তা অনুসারে তথ্য বিনিময় প্রক্রিয়া সহজ করা।
  • দোহাটেক মিডিয়ার সাথে চুক্তি স্বাক্ষরঃ আরজেএসসির সেবাসমূহ গ্রাহক পর্যায়ে আরো সহজীকরনের উদ্দেশ্যে গ্রাহক পর্যায়ে ডিজিটাল স্বাক্ষর চালু করণের লক্ষ্যে দোহাটেক মিডিয়ার সাথে ২০১৯ সালে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। গ্রাহক পর্যায়ে ডিজিটাল স্বাক্ষর চালুর মাধ্যমে গ্রাহক কর্তৃক ডকুমেন্ট যাচাই বাছাই সহজ ও দ্রুত সময়ে সম্পন্ন হবে। এর ফলে পেপারলেস অফিস প্রতিষ্ঠিত হবে যা বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি করবে।
  • দি সিটি ব্যাংকের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরঃ ২০২০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি দি সিটি ব্যাংক এর সাথে ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট প্রক্রিয়া চালুর  উদ্দেশ্যে চুক্তি সম্পাদন হয় । এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রাহক বিশ্বের যে কোনো স্থান থেকে যে কোনো সময়ে অনলাইনেই ফিস প্রদান করতে পারবে। ফলে দ্রুত সময়ে ফিস প্রদান প্রক্রিয়া সহজীকরণ হবে।
  • বিডা, বেজা, হাইটেক পার্ক এর সাথে চুক্তি স্বাক্ষরঃ বিডা, বেজা, হাইটেক পার্ক এর OSS platform এর মাধ্যমে আরজেএসসির সেবা প্রদান উদ্দেশ্যে চুক্তি সম্পাদন করা হয় । এই চুক্তিসমূহের উদ্দেশ্য হলো ওয়ান স্টপ সার্ভিস সিস্টেমের মাধ্যমে তথ্য বিনিময়, উভয় পক্ষের মধ্যে তথ্য শেয়ার করা এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে প্রাসঙ্গিক তথ্য সরবরাহ করা, সঞ্চিত তথ্যের সত্যতা এবং যথার্থতা পরীক্ষা করতে উভয় পক্ষের সিস্টেমের মধ্যে তথ্য অখণ্ডতার (integrity) যাচাইকরণ।

ডিজিটাল পদ্ধতি প্রবর্তনের ফলে অর্জিত অগ্রগতিঃ

ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেবা প্রদানের ফলে যে সকল উন্নয়ণ সূচীত হয়েছে তার তুলনামূলক বিবরনী নিম্মরূপঃ

ক্রঃ নং

সেবার নাম

ডিজিটাইজেশন এর পূর্ব চিত্র

বর্তমান চিত্র

ক.

নামের ছাড়পত্র প্রদান

কমপক্ষে সাত দিন

অটো ক্লিয়ারেন্স (সাথে সাথে)

খ.

কোম্পানি, সোসাইটি, ট্রেড অর্গানাইজেশন এবং পার্টনারশীপ ফার্ম নিবন্ধন

৩০ দিনের মধ্যে

৪ ঘন্টায় নিবন্ধন প্রদান

গ.

রিটার্ণ ফাইলিং

মিস ফাইলিং এর ক্ষেত্রে খুঁজে পাওয়া দুস্কর

তথ্যসমূহ অনলাইনে পর্যবেক্ষণ করা যায় বিধায় সহজ প্রাপ্য

ঘ.

ফিস প্রদান

অফিস কাউন্টারে জমা দিতে হতো ফলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো

অনলাইন ব্যাংকিং এর মাধ্যমে সাথে সাথে জমা প্রদান

চ.

নিবন্ধনের জন্য অফিসে যাতায়াত

কমপক্ষে ৬ বার

সাধারণত আসার প্রয়োজন হয়না

ছ.

স্বচ্ছতা

অস্বচ্ছ

স্বচ্ছ ও অনলাইন পর্যবেক্ষণ

জ.

সার্টিফাইড কপি প্রদান

স্বশরীরে সংগ্রহ করতে হতো

স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে প্রেরণ

ঝ.

জবাবদিহিতা

জবাবদিহিমূলক

কঠোর জবাবদিহিতা

১৬ মার্চ ২০০৯ খ্রিঃ তারিখে পরিদপ্তরের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে করা হয়। 

                                চিত্রঃ Online Registration কার্যক্রম উদ্বোধন- ২০০৯

ডিজিটাল কার্যক্রম প্রবর্তনের স্বীকৃতিস্বরূপ আরজেএসসি  ই-সরকার বিশেষ সম্মাননা লাভ করে।